কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি এবং লোন নেয়ার শর্তসমূহ

কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে লোন নিতে চাচ্ছেন কিন্তু লোন নেয়ার পদ্ধতি জানেন না? এই ব্যাংক থেকে লোন নিতে চাইলে বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। কী এই শর্তগুলো এবং কীভাবে লোন আবেদন – এসব বিষয় করবেন জানতে পারবেন এই পোস্টে।

বাংলাদেশের বেকার জনগোষ্ঠীর বেকারত্ব দূর করার লক্ষ্যে কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে লোন সুবিধা দেয়া হয়ে থাকে। যেসব যুবক বেকার কিন্তু কোনো উদ্যোগ নিয়ে নিজের বেকারত্ব দূর করতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য এই লোন সুবিধা প্রদান করা হয়। এজন্য যে কেউ চাইলেই আবেদন করে এই লোন নিতে পারেনা।

তবে, কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ভিন্ন ক্যাটাগরিতেও লোন প্রদান করা হতে পারে। কেউ যদি লোন নিতে চায় তবে শর্ত পূরণ করতে হবে। লোন নেয়ার শর্তগুলো কী কী এবং কীভাবে লোন আবেদন করতে হয় এগুলো বিস্তারিত জানতে শেষ অব্দি পড়ুন।

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন নিতে যা যা লাগবে

কর্মসংস্থান ব্যাংকে লোন নিতে চাইলে বেশ কিছু কগজপত্র লাগে এবং শর্ত পূরণ করতে হয়। কী কী শর্ত পূরণ করতে হয় এবং কী কী কাগজপত্র প্রদান করতে হয় সেগুলোর একটি তালিকা নিচে উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে। লোন নিতে চাইলে এই তালিকাটিতে থাকা বিষয়গুলো অবশ্যই মানতে হবে।

  1. আবেদনকারী অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকতে পারবেন না।
  2. আবেদনকারীর সদ্য তোলা ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
  3. যোগাযোগের জন্য একটি ব্যক্তিগত ও সচল মোবাইল নম্বর থাকা আবশ্যক।
  4. ঋণের জামিনদারের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও তার এক কপি ছবি।
  5. আবেদনকারীকে অবশ্যই জন্মসূত্রে বাংলাদেশী নাগরিক হতে হবে।
  6. যেকোনো সরকারি বা সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণের সনদ থাকতে হবে।
  7. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট/ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি।
  8. ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি পাশ হতে হবে।
  9. আবেদনকারীর নামে কর্মসংস্থান ব্যাংকে একটি সচল অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
  10. আবেদনকারীর বয়সসীমা অবশ্যই ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।

আপনি যদি বেকার হয়ে থাকেন এবং নিজের উদ্যোগে কিছু করতে ইচ্ছুক হন, তাহলে উপরের তালিকায় উল্লেখ করে দেয়া কাগজপত্রগুলো সঙ্গে নিয়ে কর্মসংস্থান ব্যাংকের নিকটস্থ শাখায় যান। অবশ্যই শর্তগুলো পূরণ হলে তবেই লোন পাবেন। ব্যাংকে যাওয়ার পর লোন আবেদন ফরম পূরণ করে কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

এরপর, তারা যাচাই বাছাই করে আপনার লোন আবেদনটি অনুমোদন করবে। লোন আবেদন করার পদ্ধতি নিচে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। চলুন, জেনে নেয়া যাক।

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন নেয়ার নিয়ম

কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে লোন নিতে চাইলে অবশ্যই শর্তগুলো পূরণ করতে হবে। শর্তগুলো উপরের তালিকায় উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে। শর্ত পূরণ হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো সঙ্গে নিয়ে ব্যাংকের নিকটস্থ যেকোনো শাখায় যেতে হবে।

এরপর, ব্যাংকে কর্মরত যেকোনো অফিসারকে জানাতে হবে যে আপনি একটি একাউন্ট করতে চান এবং লোন আবেদন করতে চান। তাহলে, দায়িত্বরত ব্যক্তি আপনার পেশা কী, পড়ালেখা কতদূর করেছেন, কোনো প্রশিক্ষণ নিয়েছেন কিনা, কী উদ্যোগ নেয়ার জন্য লোন আবেদন করতে ইচ্ছুক, আপনার ঠিকানা সহ বেশ কিছু প্রশ্ন করবে।

কত টাকা লোন নিতে চান এবং কত বছর মেয়াদে লোন চান সেসব প্রশ্ন করবে। এরপর, তাদের থেকে লোন আবেদন ফরমটি পূরণ করে নিন আপনার তথ্য দিয়ে। সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো জমা দিতে হবে।

লোন নেয়ার জন্য জামানত হিসেবে জমি বা বাড়ির কাগজপত্র চাইতে পারে। সেগুলো দিতে হবে। তাহলে তারা আপনার আবেদনটি গ্রহণ করবেন এবং সাবমিট করবেন। অতঃপর, যাচাই-বাছাই করার পর তারা আপনার লোন আবেদনটি অনুমোদন করবে।

এই পদ্ধতিতে কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে বেকার যে কেউ লোন আবেদন করতে পারবেন এবং লোন গ্রহণ করে নিজের কর্মসংস্থান নিজেই তৈরি করতে পারবেন।

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি

কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে লোন নিতে চাইলে কিছু শর্ত মানতে হবে যা ইতোমধ্যে বলা হয়েছে। যেকোনো বেকার যুবক যদি লোন আবেদন করতে চান, তাকে অবশ্যই যেকোনো সেক্টরে উদ্যোগ নিতে হবে। উদ্যোগ নেয়ার পূর্বে সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রেনিং নিতে হবে।

লোন আবেদন করার সময় ট্রেনিং এর সার্টিফিকেট চাওয়া হলে সেটি প্রদান করতে হবে। তবে, কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে নির্ধারিত বেশ কিছু সেক্টর আছে যেগুলোতে লোন প্রদান করা হয়। আপনি যদি এসব সেক্টরে উদ্যোগ নেয়ার জন্য লোন আবেদন করতে চান, তাহলে তারা খুব দ্রুতই লোন আবেদনটি অনুমোদন করবে।

এই ব্যাংক থেকে যেসব সেক্টরে উদ্যোগ নেয়ার জন্য সাধারণত লোন প্রদান করা হয়, সেগুলোর একটি তালিকা নিচে উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে।

  1. বাণিজ্যিক খাত
  2. সেবা খাত
  3. শিল্প কারখানা
  4. প্রাণি সম্পদ
  5. অন্যান্য উৎপাদনশীল প্রকল্প
  6. ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প
  7. যানবাহন ও পরিবহন
  8. মৎস সম্পদ

উপরের তালিকায় উল্লিখিত খাতগুলোর উপর যেকোনো উদ্যোগ নিয়ে কেউ যদি নিজের কর্মসংস্থান করতে চায়, তাহলে দ্রুত লোন প্রদান করে থাকে। তবে, যে সেক্টরে উদ্যোগ নেয়ার জন্য লোন আবেদন করবেন সেই সেক্টরের উপর যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হতে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। প্রশিক্ষণ নিয়ে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে যা লোন আবেদনের সময় জমা দিতে হবে।

যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিটাক, টিটিসি সহ সহ অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে যারা ফ্রিতে কিংবা অল্প কিছু ফি এর বিনিময়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকেন। এছাড়া, কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আছে যারা সরকারি অনুমোদিত পদ্ধতিতে ট্রেনিং দেয় এবং সার্টিফিকেট দিয়ে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নিতে হবে এবং সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে রাখতে হবে।

কর্মসংস্থান ব্যাংক অনলাইন লোন আবেদন

কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে অনলাইনে লোন প্রদান করা হয়না। যদি লোন আবেদন করতে চান, তাহলে এই ব্যাংকের নিকটস্থ যেকোনো শাখায় গিয়ে লোন আবেদন করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাথে নিয়ে ব্যাংকে যেতে হবে।

অনলাইনে লোন আবেদন করার কোনো পদ্ধতি না থাকায় লোন আবেদন করতে পারবেন না। যেকোনো প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সেটির সার্টিফিকেট সহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রগুলো সঙ্গে নিয়ে ব্যাংকে যেতে হবে। তবেই আবেদন করতে পারবেন।

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন সুদের হার

কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারবেন জামানত ছাড়া। তবে, লোনের ক্যাটাগরির উপর ভিত্তি করে জামানত লাগতে পারে। এই লোনের সুদের হার সাধারণত ৮% হয়ে থাকে। ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫ লক্ষ টাকা অব্দি বিনা জামানতে ৮% সুদের হারে লোন আবেদন করতে পারবেন।

লোন নেয়ার ক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে প্রশিক্ষণ নিতে হবে এবং সার্টিফিকেট থাকতে হবে। এছাড়া আরও কিছু শর্ত থাকতে পারে যা ব্যাংক কর্তৃক আপনাকে জানানো হবে।

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পরিশোধ পদ্ধতি

কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ৮% সুদের হারে লোন নেয়া যায় যা ২০ হাজার টাকা থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রযোজ্য। ঋণের কিস্তি সাধারণত মাসিক কিস্তি আকারে দিতে হয়। কত বছর মেয়াদে লোন নিচ্ছেন তার উপর ভিত্তি করে কিস্তির পরিমাণ কমবেশি হবে।

তবে, কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে লোন নিতে চাইলে সর্বোচ্চ ৫ বছর মেয়াদে লোন আবেদন করা যায়। বিশেষ ক্ষেত্রে এই মেয়াদের চেয়ে বেশি মেয়াদেও লোন আবেদন করতে পারবেন।

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন আবেদন ফরম

কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে লোন নিতে চাইলে লোন আবেদন ফরম যথাযথ তথ্য দিয়ে পূরণ করে ব্যাংকে জমা দিতে হবে। লোন আবেদন ফরমটি ব্যাংক কর্তৃক প্রদান করা হয়। এটি অনলাইনে ডাউনলোড করার অপশন নেই। ব্যাংকের যেকোনো শাখায় যোগাযোগ করে ফর্মটি সংগ্রহ করতে পারবেন।

সারকথা

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি, লোন নেয়ার শর্তসমূহ, লোন আবেদন করতে কী কী কাগজপত্র লাগে এসব বিষয় শেয়ার করা হয়েছে এই পোস্টে। যারা বেকার কিন্তু কোনো উদ্যোগ নিয়ে স্বাবলম্বী হতে চাচ্ছেন, তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে সেটির সার্টিফিকেট দিয়ে লোন আবেদন করতে পারবেন এই ব্যাংকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *